চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কোর্সে নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জামানত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে রহমতিয়া কম্পিউটার ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়, প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ আনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ৩ হাজার টাকা করে জামানতের অর্থ ফেরত দিয়েছে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি “ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ফ্রিল্যান্সিং (স্পেশাল ব্যাচ)” নামে তিন মাস মেয়াদি একটি কোর্সকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ হিসেবে প্রচার করে। তবে ভর্তি হওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘জামানত’ হিসেবে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা এবং সনদ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে নতুন ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভাতার পরিমাণ ১০ হাজার ২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘স্পেশাল ব্যাচ’ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে ব্যাচ পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু না হওয়া এবং এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। প্রতিষ্ঠান পরিচালকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধভাবে আদায়কৃত অর্থ ফেরত, ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্মারকলিপি দেওয়ার পরই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে নেওয়া জামানতের অর্থ ফেরত দিয়েছে। তবে তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আলতাব উদ্দিন বলেন, গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি প্রয়োজন। তবে তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া জামানতের সব অর্থ ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার জানা মতে, সব শিক্ষার্থীই টাকা ফেরত পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি লিখিতভাবে ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে জানানো হবে।