শনিবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলের নাটকীয় ও বিশৃঙ্খল ড্রয়ের পর, ম্যাচটি পাতানো ছিল—এমন যেকোনো ইঙ্গিত বা গুঞ্জনকে সরাসরি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রিয়ার কোচ রাাল্ফ রাংনিক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ওই অবিশ্বাস্য নাটকীয়তাই প্রমাণ করে যে এখানে কোনো ধরনের পূর্বপরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র ছিল না।
ম্যাচে ড্র করলেই অস্ট্রিয়া ‘জে’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে এবং আলজেরিয়া অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিত। সেটিই হয়েছে শেষ পর্যন্ত। ১৯৮২'র স্পেন বিশ্বকাপে এমনই একটা পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু তখন আলজেরিয়া ছিল ‘শিকার’, অস্ট্রিয়া ‘শিকারী’। গিহনের সেই ম্যাচে জার্মানি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১০ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কেউ আর কোনো গোলই করেনি। ‘সাজানো’ সেই ম্যাচে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় আলজেরিয়ার। যে ম্যাচের পর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ একই সময়ে শুরু হওয়ার রীতি চালু হয়। নিয়তির কি পরিহাস, ৪৪ বছর পর ইরান কি একই অভিযোগে অভিযুক্ত করবে আলজেরিয়া আর অস্ট্রিয়াকে?
৬৭ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ বলেন, "যখন একটা ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়, বিশেষ করে শেষ ৯০ সেকেন্ডে মাঠে যা ঘটেছে, এরপর কেউ ভাবতেও পারবে না যে এটি কোনো সমঝোতার ম্যাচ ছিল।"
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে খেলাটি রূপ নেয় রূপকথায়। ৯৩ মিনিটে আলজেরিয়া অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পর, ম্যাচের একেবারেই শেষ টাচে অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরান বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজিচ।
রাংনিক বলেন, "খেলার আর মাত্র তিন মিনিট বাকি, তখন কেউ যদি বলত এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, তবে আপনি নির্ঘাত তাকে পাগল বলতেন। আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে কোচিং করাচ্ছি, কিন্তু এত নাটকীয় মোড় এবং অপ্রত্যাশিত সমীকরণ বদলানো ম্যাচ আমার ক্যারিয়ারে দেখিনি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বেশিরভাগ মানুষই হয়তো ০-০ বা ১-১ ড্র আশা করেছিল, আর সেখানে ম্যাচ শেষ হলো ৩-৩ গোলে। এটা অবিশ্বাস্য। ড্রেসিংরুম এখন উৎসবে পাগলপ্রায়। আলফ্রেড হিচককও যদি এমন কোনো নাটক লিখতেন, আমি হয়তো বলতাম তিনি পুরোপুরি উন্মাদ।"
ম্যাচের শেষ দিকে কোনো দলই ড্রয়ের জন্য খেলছিল না উল্লেখ করে রাংনিক বলেন, শেষ ১৫ মিনিটেও খেলোয়াড়রা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছিল। "কেউ আমাকে বলতে পারবে না যে ম্যাচের ৯৩ মিনিটে কেউ হুট করে পরিকল্পনা করে বলবে—‘আচ্ছা চলো, এবার আমরা আরও একটা গোল করি।’ আলজেরিয়ার দু-একজন খেলোয়াড় হয়তো এমন ভেবে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের বাকি স্কোয়াড বা আমার দলের কেউ এমনটা ভাবেনি।"
৪৪ বছর পর অস্ট্রিয়াকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলতে পেরে এখনো যেন বিশ্বাস হচ্ছে না রাংনিকের। তিনি বলেন, "আমি স্বস্তিতে আছি, একই সাথে বাকরুদ্ধ ও আনন্দিত। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। এই স্বপ্ন থেকে জাগতে আমাকে একটা চিমটি কাটা দরকার।"
আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ায় শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া। সেই ম্যাচ প্রসঙ্গে রাংনিকের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য—"ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।"