ঢাকায় বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর সবুজবাগ থানার দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (২৯) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৮ জুন) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​নিহত নিলুফার ইয়াসমিন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার বিরিছিল গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী আনোয়ার হোসেন বর্তমানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে (জিএমপি) উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।

​জানা গেছে, দীর্ঘ ১৪ বছর আগে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিলুফারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৭ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত কিছুদিন ধরে দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ মসজিদের বিপরীত পাশের একটি বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ৭ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আফিয়াকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন নিলুফার। অন্যদিকে, তাদের বড় ছেলে আরাফাত একটি আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

​ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. ফাতেমা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বড় ছেলের মাদ্রাসার পড়াশোনা ঠিকমতো না হওয়া এবং আর্থিক টানাপোড়েনসহ নানাবিধ পারিবারিক কারণে নিলুফার তীব্র মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কোনো এক সময়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নিজের ব্যবহৃত ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ​

খবর পেয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতর থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে নিহতের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে ফরেনসিক মতামতের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।