মেয়েটির স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। কিন্তু দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তার ব্যক্তিগত সহায়তায় ভর্তি-অনিশ্চয়তায় থাকা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ভর্তিচ্ছু ছাত্রীর উচ্চশিক্ষার পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেধাবী ওই ছাত্রী। তবে চরম আর্থিক সংকটের কারণে ভর্তি ফি জোগাড় করতে না পেরে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। দরিদ্র পরিবারের সীমিত সামর্থ্য আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে বসেছিল।
এমন সংকটময় সময়ে বড় ভাইয়ের মতো পরম মমতায় তার পাশে দাঁড়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তারিক। রবিবার (২৮ জুন) বিকালে তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাঠান, যাতে সোমবার (২৯ জুন) নির্ধারিত সময়েই ওই ছাত্রী তার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই ছাত্রী বলেন, ‘ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পারায় আমি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মনে হচ্ছিল, হয়তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না। ঠিক সেই সময়ে তারিক ভাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই সহযোগিতা শুধু আমাকে ভর্তি হওয়ার সুযোগই করে দেয়নি, নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহসও দিয়েছে। আগে থেকেই তার মানবিক কাজের কথা শুনেছিলাম বলেই সাহস করে সাহায্যের আবেদন করেছিলাম।’
এ বিষয়ে তারিক বলেন, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। মেয়েটির নিজ জেলা গাইবান্ধার এক ছাত্রনেতার মাধ্যমে জানতে পারি, টাকার অভাবে মেয়েটি ভর্তি হতে পারছে না। পরে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হই। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র অর্থের অভাবে থেমে যাক—এটি মেনে নেওয়া যায় না। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তার ভর্তির সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাঁচাতে সামান্য অবদান রাখতে পেরে আমি আনন্দিত। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আর থেমে থাকবে না।’
তার এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথই সুগম করেনি, বরং সমাজে ইতিবাচক ও জনমুখী রাজনীতির একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। যেখানে রাজনীতি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা হয়, সেখানে একজন ছাত্রনেতার এমন নীরব মানবিকতা প্রমাণ করে—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই রাজনীতির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।