প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় আলাদাভাবে দুটি দর প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। এর বিপরীতে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভিন্ন দুটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে মনোনীত হলেও কাজটি দেওয়া হচ্ছে একজনকে। অপরদিকে নিয়ম মেনে কাজ পেলেও সেটি বাতিল করে পুনঃদরপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে অধিদপ্তরটি। অথচ অভয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
আলোচিত দুটি প্রতিষ্ঠানই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এই পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ওই সময় তারা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অনেক কাজ করেছে। এবারও দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পেলেও তাদের ক্ষেত্রে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগে মুরগির বাচ্চা কেনার জন্য জি-৩, লট-২ শিরোনামে দরপত্র আহ্বান করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিলেও রেসপন্সিভ দরদাতা হিসেবে চূড়ান্ত হয় তিনটি প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রথম হয় জেনট্যাক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। তারা দর প্রস্তাব করে ৯ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তুষার এন্টারপ্রাইজ দর প্রস্তাব করে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ২৮২ টাকা ২০ পয়সা। তৃতীয় দর প্রস্তাবকারী তামাম করপোরেশন দর দেয় ১২ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ২৮৭ টাকা ৪০ পয়সা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনটি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের মাঝে দ্বিতীয় প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান তুষার এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এর আগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে একই প্রকল্পের মাধ্যমে মুরগির খাদ্য সংগ্রহ করার অন্য একটি দর প্রস্তাবে এইচএন এন্টারপ্রাইজ কাজটির জন্য উপযোগী হলেও সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে তাদের কাজটি দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে দরপত্রটি পুনরায় আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একই দোষে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলে আর একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন শাস্তি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিমের মোবাইলে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।