উদ্যোক্তা অনুকূল পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসা-অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করছে। প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ এমএসএমই খাতের উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আগারগাঁও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা ভবন মিলনায়তনে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উইম্যান এন্ট্রাপ্রেনিউয়র্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স তুনিয়ন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম তুলে ধরেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার।

মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জাতীয় বাজেটে এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা, এসএমই ক্লাস্টার ম্যাপিং হালনাগাদকরণ এবং ইয়ুথ এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড স্টার্টআপস ফর স্টুডেন্টস (ওয়াইইএসএস) কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

এছাড়া, টার্গেটেড সাপোর্ট কর্মসূচির আওতায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও মেন্টরশিপ প্রদান, বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তাদের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠা, চাহিদাভিত্তিক ঋণ সহায়তা, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজাইনিং ও ব্র্যান্ডিং উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম দেশের এমএসএমই খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

ওয়েব সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল বলেন, দেশের প্রায় এক কোটি পুরুষ উদ্যোক্তার বিপরীতে নারী-উদ্যোক্তার সংখ্যা মাত্র প্রায় সাত লাখ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারী-উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান বাড়ে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পায়, শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। তাই নারী-উদ্যোক্তা উন্নয়ন মানেই জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে আরও একধাপ অগ্রগতি।

শিল্প সচিব আব্দুন নাসের বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়, এসএমই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এই খাতের উন্নয়নে এমএসএমই নীতিমালা ২০২৬ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রায় ২২ লক্ষাধিক উদ্যোক্তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেবা প্রদান করেছে, যাদের মধ্যে আড়াই লক্ষাধিক সরাসরি সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা এবং ৬০ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে। এই খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এমএসএমই নীতিমালা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা উন্নয়ন সেবা সহজলভ্য ও আরও কার্যকর করতে গতকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (বিডিএস) পোর্টাল’। এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তারের সঞ্চালনায় এই বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান, ব্র্যাক ব্যাংক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও-এর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার পেদ্রো জুনিয়র বেলেন এবং নারী-উদ্যোক্তা শারমিন লাবনী।