কবি ভাস্কর চৌধুরী মারা গেছেন

বহুল আলোচিত কবিতা ‘নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম’এর রচয়িতা ও বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক আশরাফুল ইসলাম ভাস্কর চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার (২৮ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি তাহমিন হক ববীর আপন বোন জামাই ও দেশ রূপান্তর’এর নীলফামারী প্রতিনিধি ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়ের ফুপা।

কবির পরিবার জানায়, গত ১৫ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরীক্ষায় তার খাদ্যনালীতে টিউমার ধরা পড়ে। এর পাশাপাশি ফুসফুসে পানি জমা এবং দীর্ঘদিনের উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সবশেষে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী ও কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে কবি ভাস্কর চৌধুরী

সোমবার (২৯ জুন) বাদ ফজর ঢাকার উত্তর আদাবরস্থ ঢাকা হাউজিং জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আছর রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ভবানীপুর গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা বলে জানান তার ছোট ভাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল আহসান জাকারিয়া মুক্তা।

ভাস্কর চৌধুরীর প্রয়াণে সমকালীন সাহিত্যিক ও গুণীজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রক্তপাতের ব্যাকরণ (১৯৮৪-গল্পগ্রন্থ), বাষট্টি বিঘা নদী (১৯৮৭-গল্পগ্রন্থ), কোথায় নিবাস (১৯৮৭-গল্পগ্রন্থ), পতনের সময় (১৯৮৮-গল্পগ্রন্থ), শনিবারে বৃষ্টি (১৯৯৯-গল্পগ্রন্থ), লালমাটি কালো মানুষ (১৯৯৮-উপন্যাস), স্বপ্নপুরুষ (১৯৯৮-উপন্যাস). মীমাংসা পর্ব (১৯৯৮-উপন্যাস) আষাড়ের জীবনদর্শণ (১৯৯৯-উপন্যাস) ভূমি (২০১১- উপন্যাস), কৃষ্ণপুরাণ (২০১১-উপন্যাস), কখনও কখনও এরকম ঘটে (২০১২-উপন্যাস)। আমার কেবলই সমর্পণ (১৯৮৬-কবিতা), নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম (২০১২-কবিতা), আমার ভেতরে আঁধার (২০১২-কবিতা), পরাণের গহীন (২০১২-কবিতা), তোর বড় কষ্টরে (২০১২-কবিতা) প্রভৃতি।