পরীক্ষার মুখে লেবানন-ইসরায়েল চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত লেবানন-ইসরায়েল কাঠামোগত চুক্তি এখন মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রবেশ করেছে। প্রথম ধাপে দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-গারবিয়া ও ফ্রুন এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সেখান থেকে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দুই এলাকায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের সাফল্যের ওপরই ভবিষ্যতে ইসরায়েলের অন্যান্য এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার নির্ভর করবে বলে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে। 

তবে লেবাননের সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েলের বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ না হলে তারা মোতায়েন শুরু করবে না এবং তেল আবিবের সঙ্গে কোনো সরাসরি সমন্বয়েও যাবে না।

এদিকে হিজবুল্লাহ চুক্তিটিকে 'আত্মসমর্পণের দলিল' আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। দলটির এমপি হাসান ফাদলাল্লাহ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তবে ইরান চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুধু লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গে লেবাননের স্পিকার নাবিহ বেরির ফোনালাপ তেহরানের কূটনৈতিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনালাপে চুক্তি বাস্তবায়ন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরে এক সাংবাদিকের 'মেক লেবানন গ্রেট অ্যাগেইন' মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, "হ্যাঁ, আমি করব।"

চুক্তিকে কেন্দ্র করে হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভের ডাকের মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি লেবাননের রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশটিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রভাবকে স্থায়ী করতে পারে। আবার অন্যদের মতে, আরব বিশ্বের সমর্থন ছাড়া এ ধরনের চুক্তি সম্ভব ছিল না এবং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যুতে সিরিয়ার ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির বৈরুত সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।