সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির তাগিদ মিডা চেয়ারম্যানের

দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে খাতটিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত, অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ আরও সহজ ও স্পষ্ট করতে হবে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারের এসব কথা বলেন আশিক চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানটি মিডা এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম। 

আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ আরও সহজ ও স্পষ্ট করতে হবে। এ জন্য নীতিগত, অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিনিয়োগকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হয়েছে। সরকারও বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত মৎস্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের সমস্যাগুলো সমাধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে।

মূল প্রবন্ধে মো. খুরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক মাছ আহরণ, মেরিকালচার, চিংড়ি উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন এবং আধুনিক সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ এখনও সীমিত। অথচ এসব খাতে শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার নৌবহর, অফশোর কার্যক্রম, ল্যান্ডিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে।

সেমিনারে জানানো হয়, পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ভিত্তিতে একটি বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করবে মিডা। পাশাপাশি চিহ্নিত নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতাগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মৎস্য খাতে কারিগরি সহায়তা ও বিনিয়োগ সহজীকরণে মিডা ও জাইকার সহযোগিতাও আরও জোরদার করা হবে।

বিশেষ বক্তব্যে তাকাহাশি নাওকি বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে মিডার নির্বাহী সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প, জাইকার মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. এচিগো মানাবু জাপানের মৎস্যবাজার, বঙ্গোপসাগরে টুনা মাছ আহরণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অ্যাগ্রোলিংকের সায়েদ ইশতিয়াক গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের সম্ভাবনা এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ড. মুহাম্মদ তানভীর হোসেন চৌধুরী মেরিকালচার ও সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। 

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের ডেপুটি চিফ অব মিশন ও মিনিস্টার তাকাহাশি নাওকিসহ সরকারি নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, মৎস্য বিশেষজ্ঞ, শিল্পোদ্যোক্তা এবং সম্ভাব্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।