বাংলাদেশ ব্যাংক

স্বল্পমেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ সুকুকে ১০ গুণের বেশি আবেদন

প্রথমবারের মতো ২৭৩ দিন মেয়াদি শরিয়াহভিত্তিক বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক ইস্যু করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই সুকুকের বিপরীতে প্রায় ১০ দশমিক ১৯ গুণ, অর্থাৎ প্রায় ৫৬ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা মূল্যের আবেদন জমা পড়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিলামে এ সুকুক ইস্যু করা হয়। এটি গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর বিপরীতে ইস্যু করা হয়েছে। সুকুকটির মেয়াদ ২৭৩ দিন এবং বার্ষিক মুনাফার হার ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রচলিত ধারার ব্যাংকের ইসলামিক শাখা (উইন্ডো) এবং শরিয়াহভিত্তিক বীমা কোম্পানিগুলো এ নিলামে অংশ নেয়। অতিরিক্ত আবেদন হওয়ায় নিলামের নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে সুকুক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব শরিয়াহ সিকিউরিটিজ মডিউল সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ নিলাম পরিচালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, স্বল্পমেয়াদি এ সুকুক চালুর ফলে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক তারল্য সংরক্ষণ (এসএলআর) পূরণে সহায়ক হবে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংক তারল্য সুবিধা থেকে অর্থ গ্রহণের সুযোগও বাড়াবে।

এ ছাড়া ২৯ জুন ২০২৬ থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শরিয়াহভিত্তিক বীমা কোম্পানি, প্রচলিত ধারার ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির ইসলামিক শাখা এবং অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানও এ সুকুকে বিনিয়োগ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট ২৭২টি সুকুক ইস্যু করা হয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের সুকুক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সুকুকের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি সুকুক চালুর ফলে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।