নিচের গ্রেডগুলোতে ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান সময়ের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সরকার নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ করছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সুখবর রয়েছে। এই গ্রেডগুলোতে সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব পর্যালোচনার টেবিলে রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে ১ থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন এই কাঠামোটি বাস্তবায়নের জন্য দুই ধাপের একটি মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যেখানে প্রথম বছর মূল বেতন কার্যকর করা এবং দ্বিতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে নতুন এই কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও কারিগরি প্রস্তুতি ও প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়ার কারণে বাড়তি বেতন পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সচিব কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ করা সচিব কমিটি মনে করছে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। তবে এটি কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। আইবিএএস সফটওয়্যারের জটিলতা এড়াতে অনেকে মূল বেতন একবারে কার্যকর করার পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যমান কিছু ভাতা পুনর্বিন্যাস বা একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ ও হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। একইসঙ্গে বর্ধিত বেতনের সুফল যেন প্রকৃত প্রয়োজনে থাকা কর্মচারীরা পান এবং যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের যেন কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়, সে বিষয়েও অর্থনীতিবিদরা সরকারকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।