'জার্মানি আর ফার্স্ট ক্লাস দল নেই', বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কোচের

বিশ্বকাপে জার্মানির টাইব্রেকার রেকর্ড মানেই ছিল অবিনশ্বর এক রূপকথা। কিন্তু ফক্সবোরোর মাঠে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর সেই অহংকার এখন ধূ ধূ মরুভূমি। ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গ্রুপ-বিপর্যয় কাটিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর পর নকআউট পর্বের মুখ দেখেছিল জার্মানি। কিন্তু লা আলবিরোহার রক্ষণাত্মক দেয়াল আর গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের বীরত্বের সামনে ১-১ সমতার পর পেনাল্টি শুটআউটে কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টেম্যাড এবং জোনাথন টাহ-এর ব্যর্থতায় বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

এই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক পরাজয়ের পর জার্মান ফুটবলের কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা করেননি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সরাসরিই মেনে নিলেন নিজেদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব।

২০২৩ সালে ডাই মানশাফটদের দায়িত্ব নেওয়া ৩৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড কোনো অজুহাত না দেখিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন:

'যদি আপনি টুর্নামেন্টের প্রথম নকআউট পর্বেই বিদায় নেন, তবে তা জার্মান ফুটবলের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। এটি আমাদের টানা তৃতীয় ব্যর্থতা (টানা দুইবার গ্রুপ পর্ব ও এবার শেষ ৩২ থেকে বিদায়)। এর সোজা অর্থ হলো—আমরা বিশ্ব ফুটবলে আর কোনো ‘ফার্স্ট ক্লাস’ বা প্রথম সারির দল নই। আমি চরমভাবে হতাশ।'

২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে বিশ্বজয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি জার্মানি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইউরোপের এই ফুটবল পরাশক্তি এখন কতটা খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। সাবেক কিংবদন্তি জার্গেন ক্লিন্সম্যানও এই বিদায়কে জার্মানির জন্য 'চরম এক লজ্জাজনক অধ্যায়' বলে আখ্যা দিয়েছেন

জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের  সাথে নাগেলসম্যানের বর্তমান চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত। বিশ্বকাপের এই ভরাডুবির পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের ঝড় উঠবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক। তবে সমালোচনার মুখে পিছু হটার পাত্র তিনি নন। সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের কথা মাথায় রেখেও নাগেলসম্যান জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না।

'আমি জানি জার্মানির মানুষ এখন আমাকে নিয়ে ইতিবাচক কিছু বলবে না, এবং সেটাই স্বাভাবিক। কারণ এই টুর্নামেন্টে আমরা তেমন কিছুই করতে পারিনি। তবে আমি এমন মানুষ নই যে পরিস্থিতি দেখে পালিয়ে যাব। যদি ডিএফবি আমাকে চায়, আমি কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।'

পুরো ম্যাচে ২১টি শট নিয়েও প্যারাগুয়ের জাল মাত্র একবার কাঁপাতে পেরেছিল জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথন টাহ-এর একটি গোল ভিএআর রিভিউতে বাতিল হওয়া নিয়েও বিতর্ক চলছে। তবে বিতর্ক যাই থাক, মূল ম্যাচের সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে। আর সেখানে ৩টি পেনাল্টি মিস করে জার্মানি প্রমাণ করল, বড় মঞ্চে 'কিলার ইন্সটিঙ্কট' বা ম্যাচ জেতার মানসিকতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে তারা।

নাগেলসম্যান হয়তো দায়িত্বে থেকে দলকে পুনর্গঠন করতে চান, কিন্তু ফুটবল বিশ্বের প্রশ্ন—জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কি তাকে সেই সময় দেবে, নাকি ২০১৪ সালের বিশ্বজয়ীদের আমূল বদলে ফেলার জন্য নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করবে?