বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই যেমন নতুন তারকার উত্থান, তেমনি অভিজ্ঞদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি বা হলুদ কার্ডের একটি ভুল লেন্সের নিচে এনে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোকে ধুয়ে দিয়েছিলেন সমালোচকরা। অনেকেই তার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু হিউস্টনের মাঠে জাপানের বিপক্ষে যখন ব্রাজিল নকআউট পর্বের খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে, তখন সেই সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিলেন এই মিডফিল্ডার।
১-০ তে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ক্যাসেমিরোর দুর্দান্ত এক হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল (পরে ইনজুরি টাইমে মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়)। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে সমালোচকদের প্রতি নিজের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন ব্রাজিলের এই ৫ নম্বর জার্সিধারী।
ক্যাসেমিরো স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“একটি হলুদ কার্ড বা মাঠের একটি একক মুহূর্ত কখনোই নির্ধারণ করে না যে আমি কে। যা আমার পরিচয় নির্ধারণ করে, তা হলো আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং আমার ফুটবল। এটাই আমি। আমি আমার ফোকাস আর জীবনের গল্পটা ধরে রাখায় বিশ্বাসী। লড়াই করা, মাঠে জীবন দেওয়া এবং অবিচল থাকা—এটাই আমার মায়ের শেখানো মূলমন্ত্র।”
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ক্যাসেমিরোকে খেলতে হয়েছে চরম মানসিক চাপের মধ্যে। প্রথম ম্যাচ থেকে একটি হলুদ কার্ডের বোঝা মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন; আরেকটি কার্ড মানেই ছিল লাল কার্ডের খাঁড়া কিংবা পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা। অথচ দলকে জেতাতে ব্রাজিলকে তখন অল-আউট আক্রমণে যেতে হয়েছিল, যার ফলে রক্ষণভাগ ছিল পুরোপুরি অরক্ষিত।
এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাসেমিরো বলেন, “এটি পুরোপুরি একটা মানসিক খেলা ছিল। যখন আমরা হাই-প্রেস ফুটবল খেলছিলাম, তখন বাড়তি সতর্ক থাকতেই হতো। তবে এই কাজে সতীর্থদের কাছ থেকে আমি দারুণ সাহায্য পেয়েছি। পুরো দল আজ প্রশংসার দাবিদার।”
কঠিন সমীকরণ পার করে ব্রাজিল দল এখন ক্রমশ নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে বলে বিশ্বাস করেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। লুকাস পাকেতাকে কিছুটা নিচে খেলিয়ে নতুন যে কম্বিনেশন তৈরি হয়েছে, তা দলকে আরও খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করছে।
“আমরা টুর্নামেন্টের সাথে সাথে নিজেদের উন্নত করছি। যখন কথাটি ব্রাজিলকে নিয়ে হয়, তখন আমাদের মাথায় সবসময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নই ঘোরে। তবে বিনয়ী হওয়াটা জরুরি। আমাদের মাঝে সেই নিবেদন ও জেদ আছে। এটা আমাদের ছোটবেলার স্বপ্ন।”
আগামী ৫ জুলাই আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।