তড়িঘড়ি জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন!

চলছে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। ২ জুন থেকে শুরু হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৩, ৪ ও ৫ জুলাই ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা আয়োজনকে ঘিরে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ২২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বাজেটের এই প্রতিযোগিতা কেন এত তড়িঘড়ি করে আয়োজন করা হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সংশিষ্ট মহলে। 

পরীক্ষা ও বিশ্বকাপের জন্য এবারের জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় দল ও অ্যাথলেট সংখ্যা কমতে পারে। কারণ এ আসরে কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অংশ না নেওয়র শংকাও রয়েছে। ফলে এতো বড় আকারের বাজেট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আগামী ২ জুলাই থেকে সারা দেশে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সঙ্গে প্রতিযোগিতার সময়সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। সাধারণত জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের শিক্ষার্থী।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র বলছে, এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন অ্যাথলেট এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ফলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তারা কীভাবে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশি¬ষ্টদের মতে, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সভিত্তিক এই আসরের সময় নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক বিষয়টি আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার জাজেস প্যানেল নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সূত্রের খবর, সম্প্রতি অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য নজির আহমেদ মল্লিকের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারির অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সাবেক জাতীয় অ্যাথলেটকে এবারের জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার জাজেস প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন মোস্তাকুর রহমান, মো. ওহাব খান, মাহাবুবা হোসেন বেলী, নামজুন নাহার বিউটি, রফিক উল্লাহ মিলন, আবদুল্লাহ হেল কাফী, খুরশীদা খুশী, আফজাল হোসেন সূর্য্য এবং আল আমিন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, ‘প্রথম তারিখ ছিল এপ্রিলে, পরে মে মাসে তারিখ নির্ৎারণ হয়। তবে নানা জটিলতায় তা করা যায়নি, কিন্তু জুনে না করলে আর করা যাবে না কারণ সামনে সামার মিট রয়েছে। নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষার কারণে কোনো অ্যাথলেট যদি জুনিয়রে অংশ নিতে না পারে তাহলে তাকে পরবর্তীতে ক্যাম্পে ডাকা হবে। সে যদি ভালো মানের অ্যথলেট হয়।’

তিনি যোগ করেন, 'বিকেএসপি সহ বেশ কয়েকটি দল অনুরোধ করেছে যাতে আর পেছানো না হয়, তাই আমরা নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি চলতি মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখে জুনিয়র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।’ 

সাবেক অ্যাথলেটদের আসন্ন জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার জাজেস প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে শাহ আলম বলেন, ‘বিষয়টি ফেডারেশনের এখতিয়ার নয়, এটা করেছে জাজেজ অ্যাসোসিয়েশনের। তাদের সিদ্ধান্ত মতে সাবেক অ্যাথলেটদের জুনিয়র মিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের তাদের নির্বাহী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়। জাজেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ মল্লিক নিজেই।’ ফলে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে নজির আহমেদ মল্লিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া জাজদের এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।