সংসদে ভুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হামজার ধন্যবাদ

‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ এর ২০ ধারা বাদ দিয়ে আইনটিতে সংশোধনী এনে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর বিল জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর বদলে ভুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিন বৈঠকের শেষ দিকে এমন ঘটনা ঘটে।

আমির হামজাকে ভুল ধরিয়ে দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিল। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন ধন্যবাদ জানাচ্ছেন? এর পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান আমির হামজা।

ভুলে আমির হামজা বলেন, সরকারের চার মাস হতে চলছে আজ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোন বিষয়ে ধন্যবাদ জানাইনি। আজকে আমরা আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই বিলটি মন্ত্রী নিয়ে আসার কারণে। এ বিলের উদ্দেশ্য কারণ এর সঙ্গে নীতিগতভাবে আমি মন্ত্রীর সঙ্গে একমত।

স্পিকার বলেন, সদস্য বিলটি তো এনেছেন ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন? 

আমির হামজা বলেন, শুনলাম সাইবারের দ্বারা অ্যাটাক যে বিষয়গুলো সবচাইতে বেশি হয় সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নামই বেশি আসে।’

উচ্চ আদালতে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের কারণে ঋণ খেলাপীর বিষয় তোলেন জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আজকে ঋণখেলাপির দায়ে একজন ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন কি বলতে পারব উনি ঋণ খেলাপি ছিলেন।

‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে’ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এমন বক্তব্য নিয়ে গত ১৮ জুন সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিতর্কের এক পর্যায়ে স্পিকার আদালতে বিচারাধীন বিষয় উল্লেখ করে রুলিং দিয়ে জানান, যে ব্যক্তি এখানে অনুপস্থিত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ নেই, পয়েন্ট অর্ডার হয় না। 

মঙ্গলবার জুয়া সংক্রান্ত বিল পাসের পর পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে ওই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে নাজিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের একজন সংসদ সদস্য আপনার (স্পিকার) কাছে জানতে চেয়েছিলেন, সংসদে কোনও ঋণখেলাপি আছে কিনা? তখন আপনি বলেছিলেন, বিচারাধীন বিষয়ে বলতে পারছেন না। আজকে ঋণখেলাপির দায়ে একজন ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এখন কি বলতে পারব উনি ঋণ খেলাপি ছিলেন?

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হল না। একজন সদস্যের সদস্য পদ থাকবে কি থাকবে না এটা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। ইসি আদালতের নির্দেশনায় আদেশ জারি করলে এ ব্যাপারে আমি আপনাদের জানাতে পারব। তাই ইসির চূড়ান্ত রায়ের জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে, তখন চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাবে।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সেদিন বলেছিলাম এ সংসদে কোনও ঋণখেলাপি সদস্য নেই, ঋণগ্রস্ত থাকতে পারে। উনি যে প্রসঙ্গটা তুললেন, এটা যেহেতু আদালতে ফয়সালা হয়ে গেছে, কিন্তু উনিতো সংসদ সদস্যের শপথ নিয়ে এখানে আসেন নাই। উনি সংসদ সদস্য নন। তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হয়েছে, উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে। এটাই শেষ। উনি সংসদ সদস্য থাকলে এ কথা বলা যেত। এটা কোনও পয়েন্ট অব অর্ডার নয়। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে দেন। কিন্তু তিনি সংসদ সদস্য নন, আপনার এই ব্যাখ্যা ঠিক আছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) উচ্চ আদালতের রায়ে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন আপিল বিভাগ। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এই আসনের ভোট নিয়ে আদালতের আদেশের কপি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।