যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বহাল রেখেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আদালতের পক্ষ থেকে ৬-৩ ভোটের এই যুগান্তকারী রায়টি দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই (২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি) একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী এবং সাময়িক ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না। আদালত সেই আদেশটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে লিখিত রুলে জানান, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অধিকার শত বছরেরও বেশি সময় ধরে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং কোনো প্রেসিডেন্টের একক নির্বাহী আদেশে এটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং রক্ষণশীল বিচারক অ্যামি কোনি ব্যারেটসহ তিনজন উদারপন্থী বিচারক একমত হয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে এই রায় দেন। অন্যদিকে, বিচারক ব্রেট কাভানো ভিন্ন যুক্তি দেখালেও ট্রাম্পের আদেশটিকে একটি ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের দায়ে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। অপর তিনজন রক্ষণশীল বিচারক এই রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত পোষণ করেন।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬০ বছর ধরে প্রচলিত একটি সাংবিধানিক নীতি। সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সবাই জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত মানুষের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর থাকলে অনথিভুক্ত অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও বৈধ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না। এতে অনথিভুক্ত বাসিন্দার সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতির পুনর্ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।