ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ আজ। নবাব সলিমুলল্লাহ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ও শেরেবাংলার দীর্ঘ সংগ্রাম ও চেষ্টার ফলে, ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।

‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যে আজ ১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে।  

পূর্ব বাংলায় আধুনিক উচ্চশিক্ষার প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে ১৯২১ সালে তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক ও ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ১৩টি অনুষদ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৬টির বেশি গবেষণাকেন্দ্র এবং ৮৪টি বিভাগে ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, কূটনীতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, গণমাধ্যম ও রাজনীতিসহ রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০০ ধাপ এগিয়ে ৪০১-৬০০ ব্যান্ডে স্থান করে নিয়েছে। একই সঙ্গে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৭-এ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাকেন্দ্রিক, উদ্ভাবননির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।  

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি সামনে রেখে ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (২০২৬-২০৪৬)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন, নৈতিক নেতৃত্ব, গবেষণা উৎকর্ষ, শিক্ষা আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। 

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে থাকছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভা। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তনে সমবেত হবেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পায়রা চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সাড়ে ১০টায় টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের স্মরণ করার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।