ছেলেকে হত্যা করে ৩ দিন পর খালে নিক্ষেপ বাবা-মার

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অটোরিকশা চালক আবদুল কাদের (২৫) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধের জেরে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত যুবকের বাবা, মা ও ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের লিটন (৫০), তার স্ত্রী কাজল বেগম (৪৫) ও ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০)। 
ফেনী জেলার সাদাবপুর রেলগেট এলাকা থেকে নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) নিহত আবদুল কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

বুধবার ১ জুলাই দুপুরে নাঙ্গলকোট থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় খালের কচুরিপানার নিচে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। লাশটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে কেউ পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পরবর্তীতে পুলিশের তদন্ত ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মরদেহটি কুরকুটা গ্রামের লিটনের ছেলে হতে পারে। এই সূত্র ধরে পুলিশ কুরকুটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে লিটনের স্ত্রী কাজল বেগম ও মেয়ে লিজা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আবদুল কাদেরের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গত ২৫ জুন বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি করা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাদেরের বাগবিতণ্ডা ও মারামারি হয়। এর জেরে ওই দিন রাতেই আসামিরা কৌশলে কাদেরকে তার নানার বাড়ি আদ্রা উত্তরপাড়া গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে তাকে পুকুরের পানিতে ফেলে ডুবিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন বাবা-মা ও ভাই।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর আসামিরা মরদেহটি পুকুর থেকে তুলে অটোরিকশায় করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর নিজেদের রান্নাঘরের মেঝেতে কোদাল ও সাবল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে কাদেরের মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং ওপরে সিমেন্টের স্ল্যাব বসিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি ওই রান্নাঘরেই নিয়মিত রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। 

মাটিচাপার তিন দিন পর রান্নাঘর থেকে মরদেহের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে ২৯ জুন রাতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এবং পলাতক মামা রিপন মিলে মরদেহটি গর্ত থেকে তোলেন। পরে নিহত কাদেরের নিজের অটোরিকশায় করেই মরদেহটি নিয়ে পদুয়ারপাড়-মেরকোটগামী কাঁচা সড়কের পাশের খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যান তারা।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশা, রান্নাঘর খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত কোদাল ও সাবল এবং হাত-পা বাঁধার দড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।