টোলমুক্ত সেতুতে ফের টোল! ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে জনমনে অসন্তোষ

দীর্ঘ আড়াই বছর টোলমুক্ত থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশাখালী উপজেলার মধ্যখানে বয়ে যাওয়া শঙ্খ নদের ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুর আবারও ইজারা কোটেশন আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইজারা কোটেশন বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর থেকে সেতু ব্যবহারকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকসহ যাত্রী-সাধারণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫১২ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তখন থেকে এই সেতু ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় করে আসছে। তবে সেতুটির দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার না হওয়ায় বিগত ৫ বছর ধরে আনোয়ারা ও বাঁশখালীর জনগণ টোল আদায়ের বিরোধীতা করে আসছে। স্থানীয়রা সেতুটি টোলমুক্ত করার দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দেয়।

২০১৭ সালে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র ও রাজনীতিবিদ মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী সেতুটি টোলমুক্ত রাখার জন্য হাইকোর্টে রিট করলে আদালত টোল আদায় স্থগিত করেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকে এই সেতু টোলমুক্ত রাখা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে এই সেতুর ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেখে যাত্রী-সাধারণসহ সেতু ব্যবহারকারী চালকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পিএবি সড়কের বাস চালক মোহাম্মদ আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকেই টোল আদায়ের নামে নৈরাজ্য চলছে। যা নিয়ে প্রায়ই যানবাহনের মালিক-শ্রমিক এমন কি যাত্রীদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ দেখা যায়। সেতুটি টোলমুক্ত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও বিএনপি সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে।’

যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, তৈলারদ্বীপ সেতুটি নির্মাণে কোনো বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের প্রয়োজন হয়নি। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। সুতরাং স্বাভাবিক নিয়মেই এ সেতুতে কোনো টোল আরোপের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘তৈলারদ্বীপ সেতুর দৈর্ঘ্যরে সমপরিমাণ অন্যান্য সেতু যদি ইজারা না হয় তাহলে এই সেতু কেন ইজার দেবে? আমি টোল আদায় বাতিলের জন্য হাইকোর্টে রিট করলে আদালত টোল আদায় স্থগিত করেছিলেন। দীর্ঘ আড়াই বছর টোলমুক্তও ছিল এই সেতু। কিন্তু হঠাৎ করে কেন ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো জানি না। আমাদের দাবি মাত্র ৫১২ মিটারের এই সেতু টোলমুক্ত করতে হবে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পত্রিকায় তৈলারদ্বীপ সেতুর ইজারা কোটেশনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সরকার টোলমুক্ত করলে আমাদের কোন সমস্যা নেই।’