এআই উত্থান: বেকারত্বের অভিশাপে বিপর্যস্ত ভারত

বিশ্বমঞ্চে ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। ঊর্ধ্বমুখী জিডিপি, রেকর্ড ছোঁয়া শেয়ার বাজার আর বিশ্বশক্তির অংশ হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে বাইরে থেকে দেশটিকে এক উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি বলেই মনে হয়। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্য আর চোখধাঁধানো প্রবৃদ্ধির আড়ালে দেশটির অভ্যন্তরে এক গভীর সংকট দানা বাঁধছে বলে দাবি করছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক বিশ্লেষণ।

‘দ্য ফল অব নেশনস’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের অর্থনীতির ভেতরের এই অন্ধকার দিকটি উন্মোচন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই প্রবৃদ্ধি আসলে ‘কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি’। অর্থাৎ, খাতা-কলমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হলেও সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রধান সংকটগুলো হলো:

স্থবির উৎপাদন খাত ও কর্মসংস্থান সংকট: প্রতি বছর ভারতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ (১২ মিলিয়ন) তরুণ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু সেই তুলনায় উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত স্থবির হয়ে থাকায় সংকুচিত হয়ে আসছে কাজের সুযোগ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর হুমকি: ভারতের যে বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণী সার্ভিস সেক্টর বা তথ্যপ্রযুক্তি সেবার ওপর ভর করে গড়ে উঠেছিল, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উত্থানের ফলে সেই খাতটিও চরম হুমকির মুখে।

ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা: দেশের তরুণ সমাজকে যুগের উপযোগী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চরম বৈষম্য: ভারতের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনকুবের এখন দেশের মোট সম্পদের প্রায় ৪০ শতাংশের মালিক। একদিকে যেমন মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ টিকে থাকার জন্য এখনো রাষ্ট্রীয় রেশন বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব এবং মধ্যবিত্তের কর্মসংস্থানের সংকট ভারতের ‘গ্লোবাল সুপারপাওয়ার’ বা বিশ্ব পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নকে গোড়া থেকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। বাইরে থেকে ভারতকে যতটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে, ভেতরকার এই কাঠামোগত দুর্বলতা দেশটির ভবিষ্যৎকে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।