সিসিসিআই সভাপতি

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার এখনই উপযুক্ত সময়

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির  (সিসিসিআই) সভাপতি মো. আমিরুল হক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার এখনই উপযুক্ত সময়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের করিডোর, এক্সপ্রেসওয়ে, এমআরটি, বন্দর উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়লে উভয়দেশের জন্য লাভজনক হবে। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার এখনই উপযুক্ত সময়।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চেম্বার সভাপতি এসব কথা বলেন।

এসময় চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর এবং চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালের অবকাঠামোগত খাতে যুক্তরাস্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

চেম্বার সভাপতি বর্তমান সরকারের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘোষিত ফ্রি-ট্রেড জোনের সুবিধা উপভোগ করতে কমার্শিয়াল কাউন্সেলরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন-ফ্রি-ট্রেড জোনে বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের ঝামেলাবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।

চেম্বার সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চায়। এক্ষেত্রে যুক্তরাস্ট্রের সাথে উইন উইন ভিত্তিতে কাজ করতে চায়, যেখানে উভয়দেশই সমানভাবে লাভবান হবে। 

মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসা-বিনিয়োগ প্রমোট করা, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা এবং ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা জানতে চাওয়াই মূলত এ মতবিনিময়ের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা সম্পর্কে জানতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে কাজ করছে। তিনি যেকোন বিনিয়োগের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

মত বিনিময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক মো. আকতার পারভেজ, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব ও রাহবার এ আনোয়ার, ইতালির অনারারী কনসাল মির্জা সালমান ইস্পাহানী, বিএসআরএম’র গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, দূতাবাসের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ৃয়া, এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ, পিডব্লিউসির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ বক্তব্য রাখেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো.আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দূতাবাসের পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, চেম্বার পরিচালক এস এম সাইফুল আলম, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মো. মনির উদ্দিন, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, মো. হাবিবুর রহমান, এ এস এম ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মো. নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মো. শফিউল আলম ও মো. সেলিম নুর, সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী, জহুরুল হক সেলিম, মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উইম্যান চেম্বারের সভাপতি আবিদা মোস্তফা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও রিটজি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা মো. জামশেদ আলী।