বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মানেই এক পরম আবেগ ও তীব্র উন্মাদনার নাম। বিশ্বকাপ কিংবা যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট এলেই মাঝরাতেও টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় দলের খেলা দেখতে বুঁদ হয়ে থাকেন লাখো সমর্থক।
ভৌগোলিক দূরত্ব ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বাংলাদেশি সমর্থকদের এই ভালোবাসা ছুঁয়ে গেছে দুই দেশের তারকাদেরও।
নেইমার-মেসিদের পাশাপাশি ক্যাসেমিরো কিংবা এমিলিয়ানো মার্টিনেজের মতো ফুটবলাররা বিভিন্ন সময়ে এ দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকেও দেখা গেছে স্থানীয় সমর্থকদের সাথে মিশে গিয়ে উল্লাসে মেতে উঠতে, যা দুই দেশের মানুষের বন্ধুত্বকে আরও নিবিড় করেছে।
তবে এই দুই দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কটা শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক গভীরতা।
১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই পরাশক্তি।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ব্রাজিল প্রথম বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এর কয়েক মাস পর, একই বছরের ২৬ অক্টোবর স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা।
ফলে ঐতিহাসিকভাবে আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিল কিছুটা আগেই বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।
ফুটবল আর ইতিহাসের পাশাপাশি বর্তমানে ব্রাজিলের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগও বেশ সুদৃঢ়।
বাণিজ্যিক দিক থেকে আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি, আবার আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিল এগিয়ে রয়েছে।
দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। যেমন, দীর্ঘ বিরতির পর আর্জেন্টিনা বাংলাদেশে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের এক বৈঠকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাও বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, ফুটবল দিয়ে শুরু হওয়া এই ভালোবাসা আজ রাজনীতি ও বাণিজ্যের হাত ধরে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।