বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার অনুরোধে তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকাজের ‘দেখভাল’ করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো দল বা আসনের নন; ববং তিনি ৩০০ আসনের প্রধানমন্ত্রী। তাই আমি আমার আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব তার হাতেই অর্পণ করেছি। তিনি সংসদের অভিভাবক হিসেবে তা গ্রহণ করেছেন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন।’
এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। এরই আলোকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি। গতকাল বুধবার ঢাকা-১৫ আসনে নানামুখী সমস্যা নিরসনে এক মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুর রহমান মিল্টন সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তারা ঢাকা-১৫ আসনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মনিপুর, বাইশটেকী ও ইব্রাহিমপুরে পৃথক চারটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।
ইব্রাহিমপুরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-১৫ আসন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। মাত্রাতিরিক্ত খানাখন্দ, ভঙ্গুর রাস্তা ও রাস্তার মাঝখানে লাইট পোস্ট থাকার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। সর্বোপরি এ আসনে পানির সমস্যা প্রকট। জলাবদ্ধতা, পানিতে দুর্গন্ধ, গ্যাসের সমস্যা, কিশোর গ্যাং ও রাস্তায় রাস্তায় জটলা এখানকার উল্লেখযোগ্য সমস্যা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএনসিসির প্রশাসকসহ আমরা সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করছি।
মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির বা দৃষ্টান্ত নেই। এটিই আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও পরিবর্তন। বিরোধীদলীয় নেতা এমন এক ব্যক্তি, তিনি মুহূর্তের মধ্যেই সংসদের পরিবেশের ভারসাম্য আনতে সক্ষম। তিনি বলেন, আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার সব উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব।