চার দফায় মেয়াদ বাড়ল

এমআরটি লাইন-৫-এর ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স ফর ঢাকা র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) সাউদার্ন রুট’ প্রকল্পের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় বাড়ল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রকল্পটির মেয়াদ। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, প্রকল্পটির অনুমোদিত মোট ব্যয় ৪১২ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৩৮ কোটি ৫১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২৭৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও ব্যয় সামান্য কমানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) নির্মাণের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, দরপত্র সহায়তা, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা এবং পুনর্বাসন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রকল্পটির চতুর্থ সংশোধিত কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। এ সংশোধনীতে তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবের তুলনায় ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা কমিয়ে মোট ব্যয় ৪১২ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

এসপিইসি সভায় প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) শর্ত অনুযায়ী ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের আগে মোট ঋণের অন্তত ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি এবং ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব কাজ চলমান কারিগরি প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন না হলে মূল বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হবে না। এ ছাড়া মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে প্রকল্পের অগ্রগতির এসব তথ্য পুনর্গঠিত আরটিএপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব দেশ রূপান্তরকে বলেন, মূল প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন না হওয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কাজ শুরু করা যায়নি, তাই প্রকল্পের মেয়াদ বার বার বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। একই কারণে নির্মাণ তদারকি পরামর্শক নিয়োগের কাজও শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিপিপি হলেই পরবর্তী কাজ শুরু করতে পারব।

২০৩০ সাল নাগাদ এমআরটি-৫-এ সাউদান রুট বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএমটিসিএল। এর সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এই প্রকল্পে (কারিগরি প্রকল্প) যেহেতু সময় বৃদ্ধি করতে হয়েছে তাই মূল প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকবে আমাদের।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্ট্রার, আফতাবনগর পূর্ব, নাসিরাবাদ হয়ে দাশেরকান্দি ১৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার তৈরি করা হবে। এটি গাবতলী থেকে আফতাবনগর সেন্ট্রার পর্যন্ত পাতাল এবং বাকি অংশে উড়াল রেলপথ হবে। উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে নির্মিতব্য এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) চালু হলে ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকার যানজট কমাতে এবং পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি হবে রাজধানীর দ্বিতীয় পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী মেট্রোরেল।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) ব্যবহার করে যাতায়াতের ফলে বছরে প্রায় ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪১ দশমিক ২২ হাজার টন জ্বালানি সাশ্রয় হবে। সড়কপথে যানবাহনের চলাচল বছরে প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার কিলোমিটার কমবে, যার ফলে রাস্তায় প্রায় ১ হাজার ৪৯টি যানবাহনের চলাচল হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে।