দাবানলে জ্বলছে ফ্রান্স

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের পর শুকিয়ে যাওয়া বনাঞ্চল ও প্রবল বাতাসের কারণে দক্ষিণ ফ্রান্সে একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত দমকলকর্মী নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

স্পেন সীমান্তসংলগ্ন অদ অঞ্চলের প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি এখনো প্রতিকূল রয়েছে। বাতাসের তীব্রতায় আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ কঠিন হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে মার্সেই বিমানবন্দরের কাছে রোগনাক এলাকায় আরেকটি ছোট দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। লানকন-প্রোভঁস এলাকায় প্রায় ২৬০ হেক্টরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি আগুন ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত তিনটি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরনগরী মার্সেইয়ের পশ্চিম উপকণ্ঠে। তিনটি দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২১০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। 

দাবানলের কারণে মার্সেই অঞ্চলের বাতাস ধোঁয়ায় ভারী হয়ে উঠেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শহরের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীরা ধোঁয়ার তীব্র গন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পাইলট তাদের আশ্বস্ত করেন যে গন্ধটি বিমানের ভেতর থেকে নয়, বাইরে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়া থেকে আসছে।

এদিকে কান শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের পর্যটন শহর ফ্রেজুসেও একটি বন দাবানলের কারণে বুধবার ছয়টি ক্যাম্পসাইট থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত সপ্তাহে সতর্ক করে জানিয়েছিল, পশ্চিম ইউরোপে জুনের শেষ দিকে রেকর্ড তাপমাত্রার পর দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা এবং শুকনো উদ্ভিদের কারণে দাবানলের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর আগামী সপ্তাহে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া তাপপ্রবাহে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।