প্রতিশোধের আহ্বান সারা বিশ্বের কানে পৌঁছে দিতে চায় ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় দেশবাসীকে ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, এই উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে প্রতিশোধের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, 'আমি ইরানের সব জনগণকে আহ্বান জানাই, আপনারা জানাজার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইসলামী ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন।'

তিনি আরও বলেন, 'জাতির প্রতিশোধের আহ্বান যেন সারা বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।'

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির জানাজা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় শনিবার থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।

ইরানের ধর্মীয় নেতা হিসেবে শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত প্রভাবশালী খামেনি ৮৬ বছর বয়সে রাজধানী তেহরানে তার বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। শনিবার রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে। এ সময় তার নিহত স্বজনদের মরদেহও সেখানে প্রদর্শন করা হবে।

ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, জানাজার অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। তা হলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য।

গালিবাফ বলেন, 'ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।'

জানাজার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম ও মাশহাদ শহরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ অফিস বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে তেহরানের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ থাকবে এবং সোমবার পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে।

তেহরানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে তাকে দাফন করা হবে। মাশহাদই খামেনির জন্মস্থান।

তবে তেহরানের মূল জানাজার অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মুজতবা খামেনি উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরানে পৌঁছাচ্ছেন।