ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

আট দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল জীবনের স্পন্দন

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আট দিন পর নয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। দীর্ঘ ও জটিল এ উদ্ধার অভিযানকে 'অলৌকিক' বলে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম হার্নান আলবার্তো গিল ফ্লোরেস (৪৪)। তিনি উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের পার্কিং ভবন ধসে প্রায় ২৯ ফুট গভীরে আটকা পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের কয়েক দিনের নিরলস প্রচেষ্টার পর তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।

উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার স্ত্রী গুসবিমার গনজালেস বলেন, ভূমিকম্পের পর কয়েক দিন ধরে তিনি ভেবেছিলেন, তার স্বামী আর বেঁচে নেই।

বুধবার চিলির দমকল বিভাগ প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, অনুসন্ধান ক্যামেরার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা গিলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। কংক্রিটের বিশাল স্তূপের ফাঁক দিয়ে তার হাতের আঙুল নড়তে দেখা যায়।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, গিলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। সরু পাইপ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে তাকে পানি, তরল খাবার, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ করা হয়।

চিলির দমকল বিভাগ জানায়, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার কংক্রিট ও অন্যান্য অংশ ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।

জাতিসংঘের দুর্যোগ মূল্যায়ন ও সমন্বয় (ইউএনডিএসি) দলের সদস্য সেবাস্তিয়ান মোকরকার জানান, ভূমিকম্পের সাত দিনের বেশি সময় পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সাধারণত অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে 'গোল্ডেন উইন্ডো' হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের পর পানি না পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।

কোস্টারিকার রেড ক্রস জানায়, গত রোববার প্রথম খবর পাওয়া যায় যে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকতে পারেন। পরে রাডার, সোনার ও শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্রের সাহায্যে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

এরপর প্রায় ছয়টি দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞ দল টানা তিন দিন নিরাপদ একটি পথ তৈরি এবং গিলকে জীবিত রাখার জন্য কাজ করেন।

জোড়া ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ছিল উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরা। সেখানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি অনেক মানুষ কোদাল, শাবল এমনকি খালি হাতেও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করছে।

বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত দুই হাজার ২৯৫ জনে পৌঁছেছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লা গুয়াইরার এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি যে অস্থায়ী মর্গে কাজ করছেন, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মরদেহ আনা হচ্ছে।