পিরোজপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের

পিরোজপুরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, পিরোজপুরের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসক সংকট দূর করতে জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে দেশ রূপান্তর এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের কাছে এ দাবি জানান।

অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুরবাসী উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের ১০০ শয্যার হাসপাতালটি প্রায় ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন ১৫০ শয্যার জন্য ৯ তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও লিফট না থাকায় সেটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও দক্ষ টেকনিশিয়ানের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে হাসপাতালের অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। জটিল রোগীদের খুলনা, বরিশাল ও ঢাকায় রেফার করা হয়। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ—উভয়ই নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। 

অন্যদিকে, অসহায় ও দরিদ্র অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে পিরোজপুরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, পিরোজপুর সদর হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও অবকাঠামো রয়েছে। সরকার যেহেতু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে, তাই পিরোজপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে কেন্দ্র করে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পিরোজপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি উত্থাপন করেছি। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে সোচ্চার হলে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি আরও বলেন, পিরোজপুরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি জেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। তিনি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।