ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৩ জুলাই)  সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

বাজুস বলেছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই বহাল থাকবে।

এর আগে গত ২ জুলাইও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৮৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ দফা দাম বেড়েছে, ৪২ দফা কমেছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ দফা দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ দফা কমানো হয়।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৫৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ দফা দাম বেড়েছে এবং ২৬ দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ১৩ দফা; এর মধ্যে ১০ দফা বেড়েছিল এবং ৩ দফা কমেছিল।