হাটুভাঙ্গা সেতুর টোল বন্ধের দাবিতে উত্তাল ফেসবুক

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর উপর নির্মিত হাটুভাঙ্গা সেতুতে নতুন করে টোল আদায়ের ইজারা হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। ইতোপূর্বে মোটরসাইকেলের ওপর টোল আদায় না হলেও এবার আদায় করায় এই সমালোচনা আরও উসকে উঠেছে। অনেকে করছেন নেতিবাচক মন্তব্য। সেতুটি ঢাকামুখী যোগাযোগের জন্য জেলার সখিপুর ও মির্জাপুরের উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

এদিকে হাটুভাঙ্গা সেতুতে নতুন করে ইজারা প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। নির্বাচনের পূর্বে একটি জনসভায় সরকারি বিধি বিধান অনুযায়ী ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। যদিও সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সেতুর টোল আদায় প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য নির্বাচনের পরপরই ডিও লেটার দিয়েছিলেন তিনি। তবে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা প্রক্রিয়া চলমান রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় এবারো ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে ইজারার মাধ্যমে সেতুটি থেকে টোল আদায় হয়ে আসছে। ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি থেকে এপর্যন্ত নির্মাণ ব্যয়ের কয়েক গুন টাকা টোল হিসেবে আদায় হলেও এখন পর্যন্ত ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে আগামী ৩ বছরের জন্য নতুন করে প্রায় ১২ (ভ্যাট-আয়করসহ) কোটি টাকায় নতুন করে সেতুটি ইজারা দেওয়া হয়। যা গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নতুন ইজারাদার মোটরসাইকেলেও টোল নির্ধারণ করায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে। অবশ্য সমালোচনা হওয়ার পরপরই মোটরসাইকেলের টোল আদায় বন্ধ রেখেছেন ইজাদার।

টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান মাসুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার মাসুদুর রহমান বলেন, সরকার ইজারা প্রক্রিয়া চালু রাখায় আমি এতে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পেয়েছি। মোটর সাইকেলের ওপর টোল আদায় করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বিধায় মোটর সাইকেল থেকে টোল আদায় বন্ধ রেখেছি।

টাঙ্গাইল জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, এই সেতুতে যেন আর টোল আদায়ের ইজারা প্রক্রিয়া না করা হয় সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা মতামত দিয়েছিলাম। স্থানীয় সংসদ সদস্যও নির্বাচনের পরপরই এটি বন্ধের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, সেতুর টোল বন্ধ করতে একটি আইন বাতিল করতে হবে। আগামী ৭ তারিখের অধিবেশনে আমি বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করবো। যদিও নতুন করে যেন ইজারা না হয় সেজন্য নির্বাচিত হওয়ার পরপরই আমি ডিও লেটারও দিয়েছি।