গত জুনের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত চলা তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হন। বিশ বছরেরও বেশি আগে রেকর্ড গড়া তাপপ্রবাহের পরও মহাদেশটি এখনও চরম গরম মোকাবিলায় পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়।
সাম্প্রতিক এই তাপপ্রবাহে ইউরোপে প্রায় ৪১ কোটি মানুষের বসবাসরত এলাকা আক্রান্ত হয়েছে। তুলনায় ২০০৩ সালের ১ থেকে ১৭ আগস্টের রেকর্ড তাপপ্রবাহে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩২ কোটি।
এএফপি ইউরোপীয় খরা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইউরোপিয়ান ড্রট অবজারভেটরি) দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার তথ্য এবং ইউরোপীয় কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করে এ হিসাব করেছে।
চলতি বছরের তাপপ্রবাহে ইউরোপের কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া স্কুল ও সংগীত উৎসব বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এয়ার কন্ডিশনার) ব্যবহারের প্রসার ঘটানো উচিত কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা দিয়েছে।
জুনের এই তাপপ্রবাহে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের প্রায় পুরো জনসংখ্যা এবং স্পেন ও ইতালির মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ অন্তত একবার ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে ছিলেন। তাপপ্রবাহটি আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে শুরু হয়ে ইউক্রেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এর মধ্যে ছিল বলকান অঞ্চল ও জার্মানি।
প্রতিবেনটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনের লেইদা শহর ও কাতালোনিয়া অঞ্চলের আশপাশে টানা অন্তত ১৬ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।
এছাড়া পুরো ইউরোপে প্রায় ৫ কোটি মানুষের বসবাসকারী এলাকায় তাপপ্রবাহ চলাকালে অন্তত ১০ দিন দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে।
এর মধ্যে মধ্য ও দক্ষিণ ফ্রান্সে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম স্পেনে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি এবং উত্তর ইতালির প্রধানত পো উপত্যকা অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ এ ধরনের তাপমাত্রার মুখোমুখি হন।
মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে এ ধরনের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম সময় স্থায়ী ছিল। পোল্যান্ডে সর্বোচ্চ তিন দিন এবং ইউক্রেনে সর্বোচ্চ চার দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
তবে জার্মানি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে।
ফ্রান্সে গড় তাপমাত্রাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দেশটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাতগুলোর রেকর্ডও এ সময় সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি