ধেয়ে আসছে ‘সুপার টাইফুন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা শুক্রবার জানালা-দরজা মজবুতভাবে বন্ধ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করতে শুরু করেন।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি শক্তিশালী ঝড় প্রবল বেগে ঘনীভূত হয়ে ‘সুপার টাইফুন-এ পরিণত হতে পারে বলে জানা গেছে। এটি দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের (জেটিডব্লিউসি) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত টাইফুন ‘বাভি’ মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল। এ সময় ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার (১০৪ মাইল) ও দমকা হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০৩ কিলোমিটার।

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী মারিয়ানা অঞ্চলের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আবহাওয়া পরিষেবা সতর্ক করে আরও বলেছে, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সব বাসিন্দার জন্য যেকোনো টাইফুন মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জেটিডব্লিউসি জানায়, পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি শনিবার সকালে ‘সুপার টাইফুন’ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তখন এর বাতাসের গতি দাঁড়াতে পারে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার। এরপর আরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘণ্টায় ২৭৮ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে পারে, যা ক্যাটাগরি পাঁচ হারিকেনের সমতুল্য।

জেটিডব্লিউসি আরও জানায়, পশ্চিম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে ২৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির ঘূর্ণিঝড়কেই ‘সুপার টাইফুন’ বলা হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছুটা দুর্বল হয়ে গেলেও টাইফুনটি সোমবার সকালে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানতে পারে। এর আগে, গত এপ্রিলে আঘাত হানা সুপার টাইফুন সিনলাকুর ক্ষয়ক্ষতি থেকে অঞ্চলটি এখনো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।