ডেটা সেন্টারের বিস্তারে বাড়ছে পরিবেশের ওপর চাপ

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসার কাজ বদলে দিচ্ছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির পেছনে যে পরিমাণ শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে, তা পরিবেশের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে, এমনই একটি চিত্র উঠে এসেছে গুগল ও অ্যামাজনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে গুগলের কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ, আর অ্যামাজনের বেড়েছে ১৬ শতাংশ। দুই কোম্পানিই ভবিষ্যতে শূন্য কার্বন নিঃসরণ (নেট-জিরো) করার লক্ষ্য ঠিক করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই লক্ষ্য অর্জন করা এখন আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

গুগল ও অ্যামাজন সরাসরি না বললেও, তাদের রিপোর্ট থেকে বোঝা যায় যে এআই ব্যবহারের কারণে তাদের ডেটা সেন্টারগুলোর কাজ অনেক বেড়ে গেছে। এই ডেটা সেন্টারগুলো চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে। এআই যত বেশি ব্যবহার হচ্ছে, তত বেশি সার্ভার চালু রাখতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।

ডেটা সেন্টার হলো এমন জায়গা যেখানে বড় বড় কম্পিউটার সার্ভার রাখা হয়, যা এআই ও অনলাইন সেবা চালায়। গুগল ও অ্যামাজন বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা খুব অল্প সময়েই বড় বড় নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। এতে বিদ্যুৎ খরচও অনেক বেড়ে গেছে।

কার্বন নির্গমনের বড় অংশ আসে এমন জায়গা থেকে, যেগুলো কোম্পানির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই। এটাকে বলা হয় 'স্কোপ ৩' নির্গমন। এর মধ্যে আছে—

  • ডেটা সেন্টার বানাতে ব্যবহৃত স্টিল ও সিমেন্ট

  • কম্পিউটার চিপ ও সার্ভার তৈরি

  • পণ্য তৈরির পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা

এই অংশেই সবচেয়ে বেশি দূষণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগে গুগল ও অ্যামাজন অনেক নবায়নযোগ্য শক্তি (যেমন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ) ব্যবহার করত, যাতে দূষণ কমে। কিন্তু এখন এআইয়ের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা এত বেড়েছে যে শুধু নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে সব চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে আবার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

শুধু বিদ্যুৎ নয়, ডেটা সেন্টার বানাতেও অনেক দূষণ হয়। স্টিল ও সিমেন্ট তৈরিতে প্রচুর কার্বন নিঃসরণ হয়। এছাড়া এআই চালানোর জন্য যে উন্নত চিপ বা জিপিও লাগে, সেগুলো তৈরিতেও অনেক শক্তি ব্যবহার হয়। এই সব মিলিয়ে মোট দূষণের পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেট-জিরো লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে—

  • বেশি পরিমাণে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করতে হবে

  • কম দূষণকারী উপায়ে ডেটা সেন্টার বানাতে হবে

  • চিপ ও সার্ভার তৈরির প্রক্রিয়া আরও পরিবেশবান্ধব করতে হবে

  • কার্বন কমানোর নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

 

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ