নাইজেরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামিক স্টেট (আইএস)–সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ অভিযান সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নাইজেরিয়ায় মোতায়েন করা অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের শুরুতে জঙ্গিবাদ দমনে সহায়তা দিতে দেশটিতে এসব সেনা পাঠানো হয়েছিল।

গত ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ বাহিনী লেক চাদ অববাহিকা এলাকায় একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের অংশ হিসেবে বড়দিনে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এরপর প্রায় দুই মাস পর সেখানে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।

মাসের পর মাস ধরে চলা এই অভিযানে ইসলামিক স্টেটের জ্যেষ্ঠ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  যুক্তরাষ্ট্র জানায়, পুরো অভিযান সফল হয়েছে। একই দিনে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার তাদের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের গতিকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করবে না।

তবে যৌথ অভিযান পরিচালিত হলেও নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

নাইজেরিয়ার মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কার্যক্রম আগের মতোই চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও তাদের ব্রিফিংয়ে একই বিষয় নিশ্চিত করেছে।

ওয়াশিংটন একসময় অভিযোগ করেছিল, ইসলামপন্থী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পাশাপাশি দেশটিতে "খ্রিস্টান গণহত্যা" চলছে বলেও অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়।

তবে নাইজেরিয়া শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, সহিংসতার প্রকৃতি অত্যন্ত জটিল এবং এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নিহতদের অধিকাংশই মুসলিম। কারণ, এসব গোষ্ঠী প্রধানত দেশটির উত্তরাঞ্চলে সক্রিয়, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, নাইজেরিয়ার বিদ্রোহ দমন অভিযানে সহায়তার জন্য প্রায় ২০০ সেনা মোতায়েন করা হবে। তবে সে সময় স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, মার্কিন সেনারা সরাসরি স্থলযুদ্ধে অংশ নেবেন না।

বৃহস্পতিবার অধিকাংশ সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ড্যাগভিন অ্যান্ডারসন বলেন, অভিযানটি সফল হয়েছে এবং এর ফলে নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের নেতৃত্ব কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামিক স্টেটের তৎপরতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ৯০ শতাংশ হামলাই সাব-সাহারান আফ্রিকায় সংঘটিত হচ্ছে এবং নাইজেরিয়াভিত্তিক শাখাটিই সবচেয়ে সক্রিয়।

জেনারেল অ্যান্ডারসনের ভাষ্য, যৌথ অভিযানের ফলে সংগঠনটির স্থানীয় নেতৃত্ব কাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এতে তাদের যোগাযোগ ও সমন্বয় সক্ষমতা সীমিত হয়ে গেছে।

তবে লেক চাদ অববাহিকার এই অভিযানের আগে থেকেই নাইজেরিয়ায় দায়িত্ব পালন করা মার্কিন সামরিক সদস্যরা এখনো দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা।

নাইজেরিয়া বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ইসলামপন্থী জঙ্গি তৎপরতার পাশাপাশি দস্যুবৃত্তি ও সংঘবদ্ধ অপরাধও দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে এসব সহিংসতা এখন মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: বিবিসি