প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়। এই অর্জন সবার। প্রতিশোধ নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাই জাতীয় সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। বিচারের নামে যেন অবিচার না হয়, সতর্ক থাকবে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিটি আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, যারা হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বিচারের নামে আমরা যেন কোনো অবিচার না করি। স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচার ব্যবস্থা ব্যবহার করে মানুষের ওপর অবিচার করেছে, আমরা যেন সেই পথ অনুসরণ না করি।
তারেক রহমান বলেন, আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম- মা, আপনার ওপর ১৭ বছর যে অন্যায়-জুলুম, মানসিক নির্যাতন হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন প্রতিশোধ নেই? মা বলতেন, প্রতিহিংসা নয়, তোমার দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভাইকে একই প্রশ্ন করলে, আমার ভাইও একই কথা বলতেন। ১৭ বছর আগে যাদের সহকর্মী হিসাবে পেয়েছিলাম, তাদের অনেককেই হারিয়েছি, কারও কারও অঙ্গহানি হয়েছে। শারীরিক কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা আমিও অনুভব করি।
শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যিনি শহীদ হয়েছেন, তিনি যদি ওপর থেকে দেখেন যে তার হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমরা অন্য কারো ওপর অন্যায়-অবিচারের আশ্রয় নিচ্ছি, তাহলে সেই শহীদ কষ্ট পাবেন। আইন অনুযায়ী হত্যাকারীদের সঠিক বিচার করা হবে, প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেওয়া হবে।
দেশে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।
উপস্থিত শহীদ পরিবার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জুলাই শহীদদের সত্যিকারের সম্মান করতে হলে আমাদের কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশকে যদি আমরা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারি, তবেই ভবিষ্যতে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন যে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আপনারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সবার কাছে আমার এটাই প্রত্যাশা।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।