বিশ্ব কাঁঠাল দিবস আজ

আজ ৪ জুলাই বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সাল থেকে উদ্ভিদভিত্তিক এই পুষ্টিকর খাদ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরতে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল তার স্বাদ, গন্ধ ও বহুমুখী পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপারফুড হিসেবে সমাদৃত। এছাড়া বিশ্বে কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের গ্রীষ্ম মানেই রসালো আম, মিষ্টি লিচু আর সুবাসে ভরা কাঁঠাল। ছোটবেলা থেকে পরিচিত এই ফলটি আমাদের কাছে যতটা সাধারণ, বিশ্বের অনেক দেশের কাছে ততটাই বিস্ময়। আর সেই বিস্ময়কে উদযাপন করতেই প্রতি বছর ৪ জুলাই পালিত হয় জ্যাকফ্রুট ডে। 

শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাছে জন্মানো ফল হিসেবেই নয়, পুষ্টিগুণ, বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্য হিসেবে কাঁঠাল আজ বিশ্বজুড়ে নতুন পরিচিতি পেয়েছে। একসময় যা ছিল মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ঘরোয়া ফল, এখন তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্তোরাঁ ও রান্নাঘরে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

পাকা কাঁঠালের মিষ্টি, সুগন্ধি কোয়া যেমন ফলপ্রেমীদের কাছে প্রিয়, তেমনি কাঁচা কাঁঠাল এখন নিরামিষভোজীদের কাছে মাংসের অন্যতম জনপ্রিয় বিকল্প। এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটা রান্না করা মাংসের মতো হওয়ায় এটি দিয়ে তৈরি হয় বারবিকিউ, বার্গার, টাকো, স্যান্ডউইচ, কারি, এমনকি পিৎজার টপিংও।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কাঁঠাল বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর খাদ্যআঁশ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁঠাল খেলে হজমে সহায়তা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শরীরে শক্তি জোগাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কাঁঠালের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। ১৫৬৩ সালে পর্তুগিজ চিকিৎসক ও উদ্ভিদবিদ গার্সিয়া দা অর্টা প্রথম ইউরোপীয়দের কাছে এই ফলের পরিচয় তুলে ধরেন। পরে ১৭৮২ সালে কাঁঠাল পৌঁছে যায় জ্যামাইকায়। এরপর ধীরে ধীরে এটি এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস জনপ্রিয় হওয়ার ফলে কাঁচা কাঁঠাল বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বর্তমানে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক সুপারমার্কেটে টিনজাত বা হিমায়িত কাঁচা কাঁঠাল সহজেই পাওয়া যায়।

২০১৮ সালে ভারতের কেরালা রাজ্য কাঁঠালকে তাদের সরকারি রাজ্য ফল হিসেবে ঘোষণা করে, যা ফলটির সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি উদাহরণ।

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এর চাষ হয়। শুধু সুস্বাদু ফল হিসেবেই নয়, কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে, বীজ ভর্তা বা তরকারিতে এবং কাঠ আসবাবপত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ কাঁঠালের প্রতিটি অংশই কোনো না কোনোভাবে কাজে লাগে।