রমনা পার্কের এক নির্জন কোণে তখন দুপুরের নিস্তব্ধতা। ঠিক সেই মুহূর্তে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা রুখে দিল দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। আটক করা হলো সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়ানো এক ভুয়া পরিচয়ধারী যুবককে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকার রমনা পার্কের কাকরাইল মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
দুপুর আনুমানিক পৌনে একটার দিকে রমনা পার্কে যখন দর্শনার্থীদের ভিড় কিছুটা কম, তখন ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর অস্বাভাবিক অবস্থা নজরে পড়ে পার্কের নিরাপত্তার দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের। সুমাইয়া আক্তার নামের ওই স্কুলছাত্রীর সাথে আল আমিন (২৬) নামের এক যুবকের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয় তাদের। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার অভিযানে নামেন আনসার বাহিনীর এপিসি উজ্জ্বল, আনসার আশেক ইলাহী ও আনসার নুর ইসলাম।
আনসার সদস্যরা সন্দেহভাজন আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি করেন। প্রমাণ হিসেবে ঝটপট দুটি পরিচয়পত্রও (আইডি কার্ড) প্রদর্শন করেন। সন্দেহ হয় আনসার সদস্যদের, যাচাই করে দেখেন এগুলো ভুয়া। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে আসল সত্য।
আনসার সদস্যরা জানতে পারেন, উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সুমাইয়া ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা মো. সুজন মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত আল আমিনের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনে, যার সাথে ওই ছাত্রীর কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না। কিশোরী সুমাইয়াকে অপহরণের উদ্দেশ্যে আল আমিন তাকে আগেই কৌশলে চেতনানাশক পানীয় পান করিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আনসার সদস্যরা দ্রুত ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী এবং অভিযুক্ত আল আমিনকে নিজেদের হেফাজতে নেন। তল্লাশি চালিয়ে আল আমিনের কাছ থেকে দুটি ভুয়া আইডি কার্ড, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামালসহ অভিযুক্ত অপহরণকারীকে এবং উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রীকে রমনা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
পার্কে বেড়াতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা আনসার বাহিনীর এই দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আইনশৃঙ্খলার সমান্তরালে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের এই ঘটনাকে আনসার বাহিনীর দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।