রাশিয়ার দ্বিতীয় প্রধান শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ ও সংলগ্ন অঞ্চলে বড় ধরনের দূর পাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেইন।
শনিবার স্থানীয় সময় রাতে চালানো এ হামলায় স্থানীয় বন্দর ও তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রয়টার্স বলছে, রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেইনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়াজুড়ে জ্বালানি ঘাটতি আরও গভীর হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্দার বেলগভ জানিয়েছেন, ৬০ লাখ বাসিন্দার শহরটি ‘ব্যাপক মাত্রার’ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। নগরীর তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এসব হামলায় কেউ হতাহত হয়নি দাবি করে তিনি বলেছেন, হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংলগ্ন লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্দার দ্রোজদেঙ্কো জানিয়েছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে বাল্টিক সাগরের ভিসোৎস্ক বন্দর এলাকায় একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। বন্দরটি তেল, শস্য, কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির জন্য ব্যবহার করা হয়।
দ্রোজদেঙ্কো জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের আকাশ থেকে ৭২টি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়। এসব ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বেশ কয়েকটি এলাকায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ভিসোৎস্ক বন্দরে কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী বন্দর, তেল অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে যেগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ খরচ যোগায়। (রাশিয়ার) ক্রনস্টাট অঞ্চলেও আঘাত হানা হয়েছে। এটি ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় সীমান্ত থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দূরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য।”
তবে ক্রনস্টাটে কোনো হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। এটি সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি। এর আগে জুনে এই ঘাঁটিটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেইন।
চলতি বছর ইউক্রেইন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। এতে রাশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছে আর তাতে দেশটির ১১টি সময় অঞ্চলজুড়ে গ্যাসোলিনের সংকট দেখা দিয়েছে।