সংকটে দৌলতপুর বাঁধ প্রকল্প

ভৈরবের ভাঙনঝুঁকি থেকে স্থানীয় জনপদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে ‘দৌলতপুর বাজার রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ প্রকল্পটি বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে। জার্মান দাতাসংস্থার শর্তানুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে আন্তর্জাতিক মানের ঠিকাদার না পাওয়ায় পূর্বের টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে দাতা সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় কাজ থমকে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খুলনা সিটি করপোরেশনের অধীনে ‘দৌলতপুর বাজার রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক মানের ঠিকাদার বরাবর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ২৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পে কোনো বিদেশি ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করেননি। দেশীয় ৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে, এদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পছন্দের তালিকায় রাখা হয়। প্রকল্প সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্পের ডিজাইনের পরিবর্তন এবং দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনায় জটিলতা দেখা দেয়। মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে প্রকল্পের ব্যয় ২৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৫ কোটিতে দাঁড়ায়। এখন দাতা সংস্থার অনুমোদন নিয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   

খুলনা সিটি করপোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার প্রকল্প পরিচালক আবির-উল-জব্বার বলেন, ‘দৌলতপুর বাজার রক্ষা বাঁধ’ প্রকল্পটি খুলনা সিটি করপোরেশনের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় ‘খুলনা শহরের উন্নয়ন’-এর জন্য ৪৯১ কোটি টাকার প্রকল্পের একটি অংশ। জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দৌলতপুর ও মহেশ^রপাশা এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধ ও আকস্মিক বন্যা থেকে শহরকে রক্ষার জন্য একটি অত্যাধুনিক প্রকল্প।

তিনি বলেন, দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজে থেকে কাশিপুর এলাকার বার্মাসিল ঘাটসহ দৌলতপুর বাজার হয়ে মঞ্জু সাহেবের ময়দার মিল পর্যন্ত এবং দৌলতপুর-মহেশ^রপাশা মহাশ্মশানের ৮০ ফুট পর্যন্ত এই প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। নগরীর ৫ নম্বর ঘাটের অনুকরণে এই এলাকাজুড়ে টেকসই বাঁধ ও ৩০ ফুট গভীর করে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ভৈরব উপকূলের মাটি সরে না যাওয়া এবং স্থাপনা ভেঙে পড়া রোধ করা। তিনি আরও বলেন, যাত্রী পারাপার, পণ্য খালাস ও যানবাহন নোঙরের জন্য এখানে দুটি জেটি স্থাপন করা হবে। দৌলতপুর খেয়াঘাটের সম্প্রসারণ করা হবে। শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে রিটেইনিং ওয়ালের পাশে নতুন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। ওয়াকওয়েকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ব্লক বা পেভমেন্ট বসানো হাঁটার পথ, বসার জন্য আধুনিক বেঞ্চ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা (ল্যাম্পপোস্ট), এবং সৌন্দর্যবর্ধনে ফুলের গাছ লাগানো হবে।

‘দৌলতপুর বাজার রক্ষা বাঁধ’ প্রকল্পের পরামর্শক হেলেনা রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতপর বাজারসহ এলাকার পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং যোগ্য ঠিকাদার ও সাপ্লায়ার বাছাই করে সংস্থাকে সহায়তা করা হবে’।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দৌলতপুর ও মহেশ^রপাশা এলাকায় শহররক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।