কর্ণফুলী মহাসড়কে অবৈধ হাট

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় টানেল সংযোগ সড়কের ওপর সপ্তাহের দুই দিন বসছে অবৈধ হাট। ছয় লেনবিশিষ্ট মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ এ হাটের কারণে যানজট, জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে; দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিরাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এ অবস্থা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের হাটবাজার তালিকায় নেই এ হাটের নাম। তবু সপ্তাহের প্রতি শুক্র ও সোমবার মহাসড়কের ওপর বসে এ হাট। হাটের দিন মাছ, সবজি, ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বসে শতাধিক অস্থায়ী দোকান। ফলে সড়কের একাংশ কার্যত জনসমাগমে পরিণত হয়।

গত শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে ভ্যান বসিয়ে কিংবা পলিথিন বিছিয়ে হাটের দোকান বসেছে। ফলে মানুষের ভিড়ের মধ্যে সড়কে গাড়ি চলছে ঝুঁকি নিয়ে। স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, সব দিক থেকে চাহিদা থাকার কারণে এখানে নিয়মিত হাট বসছে। সবাই হাটে এসে বেচাবিক্রি করছে। সড়কে বসে মালামাল বিক্রির কারণে লোকজন হাঁটতে পারে না। গাড়ি চলতে পারে না। এ কথা ঠিক। তবে মানুষের চাহিদার বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রশাসন একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কটি ২০২১-২০২২ সালে নির্মাণ করা হয়। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় প্রচুর শিল্প, কল-কারখানা ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। এ কারণে সময় যত যাচ্ছে, এ মহাসড়কে যানবাহনের আধিক্য তত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ হাট ইজারাভুক্ত না হলেও ইউনিয়ন ভূমি অফিস খাস সংগ্রহ করছে নিয়মিত। তবে কত টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাস সংগ্রহের নামে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা সরকারি নিয়ম মানার ছলে রাজস্বের টাকা লুটপাট করছেন।

হাটের একজন বিক্রেতা জানান, প্রতি হাটের দিন ভূমি অফিসের লোক এসে ভাড়া আদায় করেন। দোকান ভেদে প্রত্যেককে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

খাস কালেকশনের দায়িত্বে থাকা শিকলবাহা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মৌসুমী বড়–য়া জানান, সপ্তাহে দুই দিন হাট থেকে খাস কালেকশন করে তা মাস শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। রাজস্বের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন বলেন, ‘খাস কালেকশনের রাজস্বের টাকা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সরাসরি চালানের মাধ্যমে ইউএনও কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। তবে টাকার পরিমাণ আমার জানা নেই। একেক সময় কমবেশি হতে পারে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানান, এই অবৈধ হাটহাজারটি তাদের নজরে এসেছে। এটি উচ্ছেদের জন্য কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথাও হয়েছে। তিনি আশ^স্ত করেছিলেন, সড়কের পাশে কিছু খাস জায়গা রয়েছে, সেখানেই হাটটি সরিয়ে নেবেন। কিন্তু এখনো সে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, মহাসড়কের ওপর বা নিয়ন্ত্রণরেখার মধ্যে হাটবাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। আইনে মহাসড়কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ১২ (ঘ) ধারায় বলা আছে, ‘মহাসড়কের জন্য বা যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিতকরণপূর্বক উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে থাকা স্থাপনা, হাটবাজার ও তিন চাকার গাড়ি অপসারণে রুল জারি করে হাইকোর্ট। আইনজীবী এস এম বদরুল ইসলামের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও ইজারাবিহীন একটি হাটবাজার কীভাবে মহাসড়কের ওপর দিনের পর দিন বসছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, ‘অস্থায়ী এই হাটবাজারের কারণে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাজারটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে কোনো উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে সওজ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’