খামেনির জানাজায় তিন সন্তান, আড়ালেই রইলেন উত্তরসূরি মোজতবা

ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন খামেনির তিন ছেলে। রবিবার (৫ জুলাই) তেহরানের ইমাম খামেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বাবার কফিনের পাশে তাদের দেখা গেলেও, নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মনোনীত মোজতবা খামেনির উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

রবিবার সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ খামেনি মোসাল্লার বিশাল আঙিনায় রাখা কফিনগুলোর পেছনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। সেই হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণে মোজতবার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং তার এক বা উভয় পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। ঘটনার পর থেকে জনসমক্ষে তাকে আর দেখা যায়নি।

এদিকে, খামেনির মৃত্যুতে ইরানে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। শোকের অংশ হিসেবে তার মরদেহ পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকের পবিত্র শিয়া তীর্থস্থানগুলোতেও নেওয়া হবে। শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের একটি ইনডোর ভেন্যুতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর, রবিবার বাইরে সবার জন্য রাখা হয় খামেনি, তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাদের গালিবফও জানাজায় অংশ নেন। এ সময় আবেগপ্রবণ মাসুদ খামেনিকে কিফিয়া (ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি স্কার্ফ) দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়, যা ইরানে বিপ্লবী আদর্শ ও ফিলিস্তিনি সংহতির প্রতীক।

গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত কেবল মেট্রোরেল ব্যবহার করেই প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মোসাল্লায় জড়ো হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে এক বিশাল শোক মিছিলের পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ নেওয়া হবে শিয়াদের পবিত্র শহর কোম-এ। বুধবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়। সবশেষে বৃহস্পতিবার ইরানে ফিরে আসার পর মাশহাদে শিয়া ইমামের মাজারের পাশে সমাহিত করা হবে খামেনিকে।

সূত্র: রয়টার্স