প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই।
আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন) ।
আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
তিনি বলেন, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তিনি মারা যান।
ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান জলিও তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরে খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মিরপুরে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আবুল কাসেম ফজলুল হক নিরপেক্ষ রাজনীতি চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। কর্মজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন।
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে গুণী এই অধ্যাপকের। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থ।
১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির সভাপতি নিযুক্ত করে সরকার।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে হত্যার শিকার হন।