পে-স্কেল : সফটওয়্যার জটিলতায় আটকে আছে গেজেট প্রকাশ!

নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা এবং জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে তা কার্যকরের কথা থাকলেও সফটওয়্যার সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতার কারণে এখনো গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় (iBAS++) হওয়ায় হঠাৎ করে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জটিলতা ও ভুল তৈরির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন কাঠামোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলের খসড়া চূড়ান্ত। বর্তমানে সরকারি বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও জিপিএফসহ অধিকাংশ আর্থিক কার্যক্রম ইএফটি ও আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করতে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, একাধিক ধাপে মূল বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর বারবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে, যা সফটওয়্যার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা ও ভুলের ঝুঁকি বাড়াবে। এতে পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও অবসর সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি। কারণ পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য অবসর সুবিধা শেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাই ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হলে এসব সুবিধা সমন্বয় করাও জটিল হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে বিলম্ব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। 

বিগত ১১ বছরে প্রায় ১০৮ শতাংশ পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, যেখানে সর্বশেষ পে-স্কেলটি ২০১৫ সালে কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে আগের পে-স্কেলের বেতনের কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় সরকারি কর্মচারীরা পরিবার নিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন।