ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে একের পর এক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটছে। এবার তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগের দিন সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, এই ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার ভোরের দিকে কিয়েভের কেন্দ্রস্থলজুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই যৌথ হামলা ভোর গড়িয়েও অব্যাহত ছিল। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং শহরের অন্তত দুটি জেলায় আগুন লেগেছে বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মেয়র ক্লিটসকো আরও জানান, শহরের পদিলস্কি জেলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। বিস্ফোরণের ঠিক কিছু সময় আগে পুরো শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়।
এর আগে, গত রবিবারই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আবার একটি ‘বড় ধরনের গণ-হামলার প্রস্তুতি’ নিচ্ছে। তার সেই আশঙ্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো। এর আগে, গত বৃহস্পতিবারও কিয়েভে একটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। সেই হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানীতে হওয়া তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী হামলা ছিল।
মঙ্গলবার থেকে তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে রুশ বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে ইউক্রেনের শহরগুলো এখন প্রায় প্রতি রাতেই মস্কোর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে।
পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে থাকা শোধনাগার, বন্দর এবং সামরিক কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। প্রায় ৯০ মিনিটের সেই দীর্ঘ ফোনালাপে মার্কিন নেতা ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আবারও সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন