নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে তার অধ্যায় এখানেই শেষ।
'আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ! আমি এখানেই শুরু করেছিলাম, আর এখানেই শেষ করলাম', ও গ্লোবোকে বলেন নেইমার।
নেইমার তার বিদায়ী বার্তায় যে স্টেডিয়ামের কথা উল্লেখ করেছেন, তার পেছনে জড়িয়ে আছে ১৬ বছরের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ২০১০ সালে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই (তৎকালীন নিউ জার্সির মাঠ) ২০১০ সালের ১০ আগস্ট সান্তোসের সেই পাতলা গড়নের তরুণ নেইমারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। মনো মেনেজেসের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেই প্রীতি ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে খেলেছিলেন এবং ব্রাজিলের ২-০ ব্যবধানের জয়ে প্রথম গোলটি করেছিলেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে ১১ নম্বর পরলেও পরে ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটি নিজের করে নেন নেইমার। দেশের মাটিতে ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। ইতালি, উরুগুয়ে এবং ফাইনালে শক্তিশালী স্পেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিলের হয়ে ৪টি গোল করেছিলেন তিনি। এটিই ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে তার একমাত্র ট্রফি।
২০১৪তে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে দারুণ শুরু করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার জুনিগার হাঁটুর আঘাতে নেইমারের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক বিপর্যয় দেখতে হয়েছিল তাকে।
ইনজুরি সঙ্গী করেই ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন। ২০২২ সালে টাইব্রেকারে তার শট নেওয়ার আগেই বাদ পড়ে যায় ব্রাজিল।
এবারের বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে বেশির ভাগ সময়ই বেঞ্চে কাটাতে হয়েছে তাকে। সব ম্যাচ মিলিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন ৬০ মিনিটেরও কম (মাত্র ৫৫ মিনিট)। আর তার শেষ স্পর্শটি ছিল নরওয়ের বিপক্ষে সান্ত্বনার সেই পেনাল্টি গোল।
অলিম্পিক সোনা এবং পেলের রেকর্ডের ছায়া
সিনিয়র দলের হয়ে বিশ্বকাপ না জিতলেও ২০১৬ সালে নেইমারের নেতৃত্বেই ব্রাজিল ফুটবল দল তাদের ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতে। মারাকানা স্টেডিয়ামে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারের শেষ পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক সোনা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
১০ বছর পর, আরেকটি পেনাল্টি গোলের মাধ্যমেই হয়তো ব্রাজিলের জার্সিতে তার ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল। ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল নিয়ে নেইমার বর্তমানে ফিফার অফিশিয়াল ম্যাচ অনুযায়ী ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (পেলের অফিশিয়াল গোল ৭৭টি)। তবে কিংবদন্তি পেলে অনফিশিয়াল প্রীতি ম্যাচসহ মোট ৯৫টি গোল করেছিলেন এবং তার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা। নেইমার সেই চূড়া স্পর্শ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেও, তার সেই সময় এবার ফুরিয়ে গেল।