যুক্তরাষ্ট্রের রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং অ্যানালিটিকস অ্যান্ড ইনসাইটস বিভাগে স্নাতকোত্তর করছেন বাংলাদেশের তরুণ সুদীপ্ত আচার্য। তার জন্ম কুমিল্লার বরুড়া ধনীশ্বর। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। তিনি ভিক্টোরিয়া কলেজ রোভার স্কাউট দলের সাবেক সম্পাদক। দেশে থাকা অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘সোশ্যাল স্পাই’ নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি তিনি সুযোগ পেয়েছেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে উপস্থিত থাকার, যা তার জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রবিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিয়ষটি আলোচনায় আসে।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্ল্যাটফর্ম হলো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন। প্রতিবছরের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানেরা আন্তর্জাতিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানা বৈশ্বিক ইস্যুতে মতামত তুলে ধরেন।
সেই অধিবেশনের দর্শকসারিতে বসে আলোচনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এই তরুণ।
সুদীপ্ত আচার্য বলেন, ছোটবেলা থেকে জাতিসংঘ সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহ ছিল। ক্লাস ফোরে পরিবেশ পরিচিতি বইয়ে জাতিসংঘ সম্পর্কে পড়ার পর থেকে স্বপ্ন দেখতাম, একদিন সদর দপ্তরে গিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনা নিজের চোখে দেখব ও শুনব। আজ সেটি সত্যি হলো।
যুক্তরাষ্ট্রে একাডেমিক পড়াশোনা ও তরুণ নেতৃত্বমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ‘ইউথ ফলো’ হিসেবে সুদীপ্ত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের আমন্ত্রণ পান। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ও কুমিল্লা অনলাইন প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের মতো সংগঠনের সঙ্গে। সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের এই অভিজ্ঞতাই তাকে আন্তর্জাতিক সুযোগ এনে দেয়।
জাতিসংঘের এমন প্রোগ্রামে অংশ নিতে হলে আগেই আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে জীবনবৃত্তান্ত, সুপারিশপত্র, পাসপোর্টের কপি, নেতৃত্ব বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ এবং সংক্ষিপ্ত উদ্দেশ্য বিবৃতি (এসওপি) জমা দিতে হয়। শিক্ষা, সামাজিক অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যাচাই করে জাতিসংঘ সেক্রেটারিয়েট থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই অনুমোদনপত্র ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক কার্যক্রমেও সহায়ক হয়।
সুদীপ্ত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু কঠোর নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে; যেমন শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ কমানো, নবায়নের জটিলতা এবং ওপিটি ও এইচ-১বি কাজের ভিসায় সীমাবদ্ধতা। এতে অনেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে। যেকোনো লিগ্যাল বা ইমিগ্রেশন ইস্যুতে তারা অত্যন্ত পেশাদারভাবে সহায়তা করে।