ভারতের মুম্বাইয়ে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। প্রবল বর্ষণে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) মুম্বাইয়ের পূর্বাঞ্চলের মানখুর্দ বস্তি এলাকায় দুই থেকে তিনটি বহুতল বাড়ি ধসে পড়ে। স্থানীয় সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে পাঁচ শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুই শহরের মধ্যে যান চলাচল ব্যাহত হয়। টেলিভিশনের সম্প্রচারিত দৃশ্যে সড়কের ওপর কংক্রিটের বড় বড় খণ্ড ছড়িয়ে থাকতে এবং একটি সুড়ঙ্গের ছাদ থেকে পানি ঝরতে দেখা যায়।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সড়কপথের পাশাপাশি বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। মুম্বাই ও পুনের মধ্যে চলাচলকারী দূরপাল্লার কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে, জলাবদ্ধ রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতির কারণে সোমবার শহরের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, গত মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় আরও অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মুম্বাইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শহরের কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ১৬১ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার রাজধানী দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলের অনেক স্থানে হালকা থেকে অতি হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।