বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় কোচ আনচেলত্তিকে নিয়ে কি ভাবছে ব্রাজিল

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পথচলা শেষ হয়েছে নকআউট পর্বের শেষ ষোলোতেই। নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে সেলেসাওদের। এমন বড় ব্যর্থতার পর ফুটবল বিশ্বে সাধারণত কোচ পরিবর্তনের হিড়িক পড়লেও, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) হাঁটছে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। তারা কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রাজিলের বিদায়ের পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন সিবিএফের জাতীয় দলবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তির ওপর ফুটবল বোর্ডের পূর্ণ ভরসা রয়েছে। তাৎক্ষণিক কোনও আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তিকেই প্রধান কোচের দায়িত্বে বহাল রাখছে সিবিএফ।

কায়েতানোর মতে, দলের সাফল্য নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকতা এবং ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। নরওয়ের বিপক্ষে হারের ধাক্কা পুরো দল এখনও কাটিয়ে উঠতে না পারলেও, গত কয়েক সপ্তাহে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পেশাদারিত্ব এবং একাগ্রতা সিবিএফকে আশাবাদী করেছে। ২০২৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির অধীনে দল ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করে সংস্থাটি।

ম্যাচ এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন কার্লো আনচেলত্তি

কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের চটজলদি বিদায়ে সমর্থকদের মতো নিজেও গভীরভাবে মর্মাহত উল্লেখ করে বলেছন, নরওয়ের কাছে পরাজয় তাদের প্রাপ্য ছিল না,

"খেলার প্রায় ৭০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল। তবে নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ডের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও গতি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ওডেগার্ডকে নিচে নামিয়ে খেলায় নরওয়ে আমাদের ডিফেন্সকে ওয়ান-অন-ওয়ান ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল।"

তবে এই বিদায়কে কোনো সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন না অভিজ্ঞ এই কোচ। এটিকে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। দ্রুতই এই পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে নতুন ভাবনা ও দ্বিগুণ উদ্যম নিয়ে সেলেসাওরা মাঠে ফিরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।