২৫ বছর পূর্তিতে ইমপ্যাক্টফুল ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যাক ব্যাংকের সম্মাননা

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে অসামান্য অবদান রাখা ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। 

‘বাংলাদেশের ২৫টি সবচেয়ে ইমপ্যাক্টফুল প্রতিষ্ঠান’ শীর্ষক এই সম্মাননা প্রদান উদ্যোগের মাধ্যমে জনকল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে কর্পোরেট পর্যায়ে এটিই প্রথম এ ধরনের কোনো স্বীকৃতিমূলক উদ্যোগ, যা ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগ ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের সেবা, শুদ্ধাচার, অন্তর্ভুক্তি ও ইতিবাচক সামাজিক ইমপ্যাক্ট আদর্শের প্রতিফলন। 

সম্মাননা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, খেলাধুলা এবং শিল্প-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। তাদের ধারাবাহিক উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে গঠিত দেশের প্রথিতযশা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন জুরি প্যানেল এই ইমপ্যাক্টফুল প্রতিষ্ঠান নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক পরিধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের গভীরতা, জনকল্যাণে অবদান এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকার মতো বিষয়গুলোকে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, কঠোর ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হয়েছে। ৫ জুলাই ২০২৬ ঢাকায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের গ্রাহক, ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 

সম্মাননাপ্রাপ্ত ২৫টি অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান বলেন, ‘আমাদের এই ২৫ বছরের পথচলয়া আমরা দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছি। আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য হবে, এই অন্তর্ভুক্তির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। স্যার ফজলে হাসান আবেদের ‘মিসিং মিডল’ ভিশনকে আমরা ‘মিসিং মেজরিটি’ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কাজ করে যাবো, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ সুযোগ, সেবা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে।’

ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘গত ২৫ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংক দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সমাজে এরকম আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের অসাধারণ অবদানকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। ব্র্যাক ব্যাংক এই প্রয়োজনটিই অনুভব করেছে। মানুষের জীবন বদলে দেওয়া এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা এসব প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরিতে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে ব্র্যাক ব্যাংক আরও বড় পরিসরে কাজ করে যাবে।’

অনুষ্ঠানে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড–এর সম্পাদক ইনাম আহমেদ বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া সংবাদ প্রকাশের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ব্র্যাক ব্যাংকের অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। একই সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করেছি, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া যেন স্বাধীন, কঠোর ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। আমাদের বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও উৎকর্ষ, শুদ্ধাচার ও দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক প্রভাব তৈরিতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’