ক্ষমতা ছাড়লেও হামাসকে বিশ্বাস করছে না ইসরায়েল

গাজা উপত্যকার শাসন কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়ে হামাসের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে স্রেফ একটি ‘মিডিয়া স্টান্ট’ বা গণমাধ্যমের ভেলকিবাজি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামাস যে নিজেদের বিলুপ্ত করছে না- ইসরায়েলের এমন অভিযোগ থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই তারা এই কৌশল নিয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, হামাস এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি। আর অস্ত্র জমা না দেওয়ার অর্থ হলো তারা গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে না। গত কয়েক মাসে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় তাদের দখলদারিত্ব আরও বাড়িয়েছে, যা এখন পুরো অঞ্চলের ৭০ শতাংশেরও বেশি। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্রসমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা পুনর্গঠন, সেনা প্রত্যাহার বা এ জাতীয় কোনো বিষয়ে কোনো আলোচনাই হবে না।

তবে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডের মাধ্যমে গঠিত স্থানীয় শাসন কমিটির অনুপস্থিতিতে ইসরায়েল কীভাবে এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়, তা স্পষ্ট নয়। এই স্থানীয় কমিটি অবশ্য হামাসের সিদ্ধান্তকে আপাতত স্বাগত জানিয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলের ভেতরে এই আশঙ্কা ও উদ্বেগ কাজ করছে যে, হামাসের এই ঘোষণার ফলে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী নিজেদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করার জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস অভিযোগ করেছে, গাজায় একটি ‘প্রশাসনিক শূন্যতা’ তৈরি করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। গাজার শাসনভার পরিচালনার জন্য জাতিসংঘ-সমর্থিত টেকনোক্র্যাট কমিটিকে উপত্যকায় প্রবেশ করতে না দিয়ে ইসরায়েল এই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে হামাস জানায়।

হামাস জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে গঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজি-র কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতেই তারা নিজেদের শাসন কমিটি বিলুপ্ত করার মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এই কমিটিকে গাজায় ঢুকতে বাধা দিচ্ছে।

এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ন্যাশনাল কমিটির কাছে গাজার শাসনভার পুরোপুরি হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত মেনে চলতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা আরও জানায়, মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিতেই ইসরায়েল গাজায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেওয়া এবং গাজায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টাকে নস্যাৎ করা।

এই পরিস্থিতিতে গাজার শাসনভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সচল করতে এবং ইসরায়েলি বাধা দূর করতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

সূত্র: আল-জাজিরা